1. fakrul678@gmail.com : Fakrul islam Sumon : Fakrul islam Sumon
  2. mahedipramanik@gmail.com : Md. Mahedi Hasan Pramanik : Md. Mahedi Hasan Pramanik
  3. farukomar22@gmail.com : Omar Faruk : Omar Faruk
  4. onamikaafrinonu098@gmail.com : Onamika Afrin : Onamika Afrin
  5. admin@obirambanglanews24.com : Md. Shahjalal Pramanik : Md. Shahjalal Pramanik Sumon
  6. robinmahamudkhan007@gmail.com : Robin Mahamud Khan : Robin Mahamud Khan
  7. sapahar.sakib@gmail.com : Md. Sakib Hossen : Md. Sakib Hossen
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ভেঙ্গে গেছে সাঁকো, চরম দূর্ভোগে ১২ গ্রামের মানুষ সিরাজগঞ্জে ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির ১৪ সদস্য আটক নালী ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে এমপি দূর্জয় জন্মদিন উদযাপন উলিপুরে পন্ডিত মহির উদ্দিন স্কুলে ছাত্র ছাত্রী দের কাছে অবৈধ ভাবে টাকা উত্তলন-ফলোআপ নিউজ। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা তিস্তার ভাঙ্গন ঠেকাতে এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে বাশ ও গাছ দিয়ে বান্ডাল নির্মাণ সিরাজগঞ্জে কাভার্ড ভ্যান-অটো ভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ শাহজাদপুরে বন্যায় ভেঙ্গে পড়ল ৩৬ লাখ টাকার ব্রীজ মসিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রায় বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেত শিল্প আমন ধানের ক্ষেতে সবুজের হাসি

বিদ্রোহী কবি নজরুল স্মরণে

সম্পাদকীয়
  • Update Time : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০
  • ২০৭ Time View

কাজী নজরুল ইসলাম। একটি নাম, একটি বিপ্লব, একটি ইতিহাস। তিনি শিশুর কাছে দুখু মিয়া, শিল্পীর কাছে বুলবুল। কবিতায় বিদ্রোহী। আর আপামর জনসাধারণ্যে তিনি আমাদের এই বাংলাদেশের জাতীয় কবি। যিনি ১৮৯৯ ঈসায়ী সনের ২৫শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করছেন। এবং ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার লেখা “মাসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই” গানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশেই কবরস্থ করা হয়।

নজরুল ছোটবেলা থেকেই ছিলেন চঞ্চল প্রকৃতির। কবির শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিলো মসজিদ ভিত্তিক মক্তবে। কিন্তু শিশু কালেই নয় বছর বয়সে তার পিতার মৃত্যুতে তাদের পারিবারিক অভাব অনটন দেখা দেয়। এবং এতে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। এ সময় নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা এবং মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ শুরু করেন। এবং তিনি অল্প বয়সেই ইসলামের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠ হন। যা পরবর্তীতে তার সাহিত্যকর্মে বিপুলভাবে প্রভাবিত করে।

নজরুল ইসলামকে বলা হয় বাংলা গজল গানের স্রষ্টা। তার বিখ্যাত গজলের মধ্যে রয়েছে “আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান, কোথা সে মুসলমান” “আল্লাহ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়” “ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মাদ এলোরে দুনিয়ায়” প্রভৃতি। কবির লেখা গানের মধ্যে সম্ভবত জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে” গানটি। বিদায়কে কেন্দ্র করে তিনি যে গান লিখেছেন, “আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়” তা কারো কারো মতে বাংলায় বিদায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীত। নজরুল ইসলামের লেখা গানের সংখ্যা আনুমানিক ৩০০০ থেকে ৫০০০।

কাজী নজরুল ইসলাম সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখলেও তিনি কবি হিসেবেই সমধিক খ্যাত। সাহিত্যানুরাগী এই কবি তার বাল্য বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো দলে যোগ দেন। তার চাচা কাজী বজলে করিম চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট উস্তাদ ছিলেন। এবং আরবী, ফারসি ও উর্দূ ভাষায় তার দখল ছিলো। কবি তার চাচার কাছ থেকে আরবী-ফারসি দিক্ষালাভ করেন। এবং পরবর্তীতে তার লিখনিতে প্রচুর আরবী আর ফারসি উপস্থিতি লক্ষ্য করব যায়।

লেটোতে থাকাকালীন কবি তার নাট্যদলের জন্য রচনা করেছিলেন বেশ কিছু লোকসঙ্গীত। এ সময় তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পরে। এবং অন্যান্য সহকর্মীদের কাছেও তিনি প্রিয়ভাজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তবে ১৯১০ সালে কবি লেটো দল ছেড়ে আবার ছাত্রজীবনে ফিরে আসেন। তার মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক কবি মুকুন্দরঞ্জন মল্লিক নজরুল ইসলাম সম্বন্ধে লিখেছেন “ছোট সুন্দর ছনমনে ছেলেটি, আমি ক্লাশ পরিদর্শন করিতে গেলে সে আগেই প্রণাম করিত। আমি হাসিয়া তাহাকে আদর করিতাম। সে বড় লাজুক ছিল।

কাজী নজরুল ইসলাম ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর আর্থিক সমস্যার কারণে তাকে আবার কাজে ফিরে যেতে হয়। কিন্তু এরপর আবার বিদ্যালয়ে ভর্তি হলে, ১৯১৭ সালে দশম শ্রেণীতে প্রিটেস্ট পরিক্ষা না দিয়েই যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। সেখানে থাকাকালীন তিনি ব্যস্ততার মাঝেও বেশকিছু লেখালেখি করেছেন। যা প্রকাশিত হতো বিভিন্ন পত্রিকায়।

১৯১২ সালে শের এ বাংলা এ কে ফজলুল হক সম্পাদিত অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত “নবযুগ” পত্রিকার মাধ্যমেই নজরুল নিয়মিত সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন। এরপর ১৯২০ সালে নজরুল “ধূমকেতু” পত্রিকা প্রকাশ করেন। এটি সপ্তাহে দু’বার প্রকাশিত হতো। ১৯২০ এর দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন এক সময় ব্যর্থ হয়। এরপর স্বরাজ গঠনে যে সশস্ত্র বিপ্লববাদের আবির্ভাব ঘটে তাতে ধূমকেতু পত্রিকার বিশেষ অবদান ছিলো।

একই বছর তার সর্ববিখ্যাত কবিতা “বিদ্রোহী” প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক বিজলীতে। যা তখন সারা ভারতের সাহিত্য সমাজে খ্যাতিলাভ করে। ব্রিটিশ বিদ্রোহের কারণে কাজী নজরুল ইসলামের ১৯২০ সালে এক বছরের কারাদণ্ড হয়। এসময় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার “বসন্ত গীতিনাট্য” গ্রন্থটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। নজরুল এই আনন্দে জেলে বসে “আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে” কবিতাটি রচনা করেন। অনেকের মতে- বাংলা কবিতায় গম্ভীরতা এবং সাহিত্য মানের দিক থেকে নজরুল সবার সেরা।

কাজী নজরুল ইসলাম ভারত-বাংলাদেশে বিভিন্ন পুরষ্কার ছাড়াও অনেক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। যেমন- আসানসোল মহানগরে ২০১২ সালে স্থাপিত হয়েছে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। আসানসোলের কাছে দুর্গাপুর মহানগরের লগোয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাম রাখা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। জীবিতকালে ১৯৬০ সালে কবিকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়।

১৯৭২ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রিয় সম্মানে বাংলাদেশে এনে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়া হয়। তার রচিত “চল চল চল” দেশের জাতীয় রণসঙ্গীত হিসেবে গৃহীত। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ জেলায় ২০০৫ সালে “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়” নামক সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকায় কবির স্মৃতিতে “নজরুল একাডেমী”, “বুলবুল ললিতকলা একাডেমী” ও শিশু সংগঠন “বাংলাদেশ নজরুল সেনা” স্থাপিত হয়। এছাড়া সরকারীভাবে স্থাপিত হয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান নজরুল ইন্সটিটিউট প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিভিন্ন গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে-
কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশী, জিঞ্জীর, কাব্য আমপারা, সিন্ধু হিন্দোল, চক্রবাক, সন্ধ্যা, প্রলয়-শিখা ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ- ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলিমালা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রুদ্র-মঙ্গল, রাজবন্দীর জবানবন্দি তার উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ।

লেখক-
সিফাত উল্লাহ আফিফ
শিক্ষার্থী,সাংবাদিক ও কবি, শরীয়তপুর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

বিভাগ সমূহ

সাইটের পেজ

© অবিরাম বাংলা নিউজ ২৪ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।এই সাইটের কোনো তথ্য বা ছবি অনুমতি ব্যতিত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ©