1. fakrul678@gmail.com : Fakrul islam Sumon : Fakrul islam Sumon
  2. mahedipramanik@gmail.com : Md. Mahedi Hasan Pramanik : Md. Mahedi Hasan Pramanik
  3. farukomar22@gmail.com : Omar Faruk : Omar Faruk
  4. onamikaafrinonu098@gmail.com : Onamika Afrin : Onamika Afrin
  5. admin@obirambanglanews24.com : Md. Shahjalal Pramanik : Md. Shahjalal Pramanik Sumon
  6. robinmahamudkhan007@gmail.com : Robin Mahamud Khan : Robin Mahamud Khan
  7. sapahar.sakib@gmail.com : Md. Sakib Hossen : Md. Sakib Hossen
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
উলিপুর ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২১ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্টিত হলো। বদলগাছীতে ১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা সহ আটক-২ কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘সিরাজগঞ্জশপ’ ও ‘আলাদীনের প্রদীপ’ রাজারহাটে জলবায়ু ঝুকিপূর্ণ ফোকাস গ্রুপের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভেঙ্গে গেছে সাঁকো, চরম দূর্ভোগে ১২ গ্রামের মানুষ সিরাজগঞ্জে ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির ১৪ সদস্য আটক নালী ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে এমপি দূর্জয় জন্মদিন উদযাপন উলিপুরে পন্ডিত মহির উদ্দিন স্কুলে ছাত্র ছাত্রী দের কাছে অবৈধ ভাবে টাকা উত্তলন-ফলোআপ নিউজ। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা তিস্তার ভাঙ্গন ঠেকাতে এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে বাশ ও গাছ দিয়ে বান্ডাল নির্মাণ

করোনাত্তোর বাংলাদেশ ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

সম্পাদকীয়
  • Update Time : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ২১৯ Time View

করোনা পৃথিবীর সকল জাতিগোষ্ঠীকে চরম ভাবনায় ফেলেছে। অনেক দিনের যত্নে গড়া এ পৃথিবী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নিয়ে যাদের কিছুটা অহংবোধ ছিল সেখানেও থাবা বসিয়েছে। ধনী-গরীব সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে। কোনো শব্দ নেই। হৈচৈ নেই অথচ ভয়ঙ্কর বিপদে মানবজাতি। প্রায় তিনলক্ষ মানুষের প্রাণ গেলো। আরও প্রায় আশি লক্ষ মানুষ এ মুহূর্তে আক্রান্ত। সবচেয়ে ভাবনার বিষয় ভয়ঙ্কর এ ঘাতক প্রতিনিয়ত রূপ বদলায়। কবে থামবে? কত মানুষের মৃত্যু হলে পৃথিবী স্থিতিশীল অবস্থায় আসবে? তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়। মানুষ হারেনা, হারতে জানেনা। গতিতে জীবন মম স্থিতিতে মরণ । এটি চিরন্তন সত্য কিন্তু বিগত শতক মানবজাতি চলছিল উদ্ভ্রান্তের মতো। তাই হয়তো একটু জিরিয়ে নেয়া।

নদীর মাছ কে জিজ্ঞেস করেছি ‘তোরা কেমন আছিস?’ বলেছে এমন সুখ তারা এ জীবনে কখনো পায়নি। সমুদ্রের ডলফিন তো আনন্দে জলকেলি করতে করতে তীর পর্যন্ত এসে জানিয়ে গেলো এতদিন পর জায়গাটা একটু তার নিজের মনে হয়েছে। সে এখন খুব খুশি। সমুদ্রটা শুধু মানুষের না তাদেরও। গগনবিদারী বিমান, যুদ্ধ বিমান, গোলা-বারুদের গন্ধ আকাশকে বিষিয়ে তুলেছে মনুষ্যজাতি। পাখিরা তাই আনন্দে একগাছ থেকে অন্যগাছে মনের আনন্দে পাখা ঝাপটাচ্ছে। বহুদিন পর আকাশে ডানা মেলে আনন্দে আত্মহারা। ডানা মেলার স্বাধীনতা অনেকদিন পর অনুভব করছে। জীবজগতের মানুষ ব্যতীত সকলে যখন মহানন্দে তখন মানবকূল আকাশের দিকে চেয়ে সাহায্য চাইছে ।সৃষ্টিকর্তা হয়তো জীবজগতের সকল প্রাণীর ফরিয়াদ শুনেছেন। শক্তির ন্যায় জীবজগতের সকল প্রাণীর সুখ-দুঃখও অবিনাশী। করোনা দিয়ে একজনের সুখ কমিয়ে অন্য জীবের দুঃখ লাঘবের প্রয়াস । কিছু মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণার বিনিময়ে প্রাণিজগতের সুখ ফেরত দেয়া হয়েছে। নিছক মানুষকে একটু স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য। তবে কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। এটি হয়তো প্রকৃতির ন্যায়বিচারের অংশ।

করোনা নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও হবে। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক। রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক ভিন্নমাত্রায় চলে আসবে। সামাজিক বন্ধন, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোবিজ্ঞান নিয়ে প্রচুর কাজ হবে। পুঁজিবাদী দুনিয়া মারমুখী প্রতিযোগিতার। এখানে কেউ কাউকে ছাড়েনা। তাই করোনা পরবর্তী বাংলাদেশের দৃষ্টি আরও সুদূরপ্রসারী ও কৌশলী হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। এদেশের মাটি যেমন উর্বর তেমনি উর্বর মানুষের মননশীলতা ও চিন্তার জগৎ। ভৌগোলিক ও ভূ-রাজনীতির দিক থেকে এ দেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত অর্থে এটি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদপুষ্ট স্থান। এখন শুধু প্রয়োজন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় যথাযথ বিনিয়োগ। করোনা পরবর্তী সময়টা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ২০৪১ সালের আগেই উন্নত রাষ্ট্র হবার সম্ভাবনা প্রবল। করোনা আমাদের অনেক ভাবনার জায়গা তৈরি করেছে:

১.
অনেকেই ভেবেছিলেন আকাশসংস্কৃতি আর ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফির ভিড়ে যুবসমাজ নষ্টের পথে, মূল্যবোধ ধ্বংসের পথে কিন্তু না, এ বিপদে তারা নানাভাবে এগিয়ে এসেছেন। আসলে নষ্টের ধারণা পরিষ্কার থাকলে ভালো পথে ফিরে আসার কাজটি সহজ হয়। নতুন প্রজন্মের ওপর নিশ্চিন্তে দেশ ছেড়ে দেয়া যায়।

২.
বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ হতাশা থাকলেও করোনা যুদ্ধে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন । পুলিশ-সেনাবাহিনী এত মানবিক অভাবনীয়। প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ যেনো অন্য এক বাংলাদেশ;

৩.
প্রথমে মনে হচ্ছিল চিকিৎসা ব্যবস্থা নড়বড়ে। তাঁদের পক্ষে ঝুঁকি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু কি আশ্চর্য! অল্পসময়ের মধ্যেই তাঁরা সব গুছিয়ে নিয়েছেন। নতুন করোনা ল্যাবরেটরিও প্রস্তুত করা হলো। অনেকেই এগিয়ে আসলেন সাহায্যের হাত নিয়ে। আসলে ঝুঁকির মধ্যে আমাদের বসবাস তাই ঝুঁকি সামলাতে আমরাই অদ্বিতীয়। আসলে রাষ্ট্র সব করে দিলে মানুষ অলস ও দুর্বল হয়। সে কারণে হয়তো সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে যারা আত্মতুষ্টিতে ছিল তাদের অবস্থাই নাজুক। করোনায় দেখা গেল মানুষের কিছু সুন্দরতম রূপ। অতি অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মতো দক্ষতা মানুষগুলোর আছে। এখন শুধু পরিকল্পনা প্রয়োজন। দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের সিস্টেম আমরাই উন্নত করতে পারি।

৪.
বাংলাদেশের দক্ষিণে বিশাল সমুদ্র। এর সঠিক যত্ন নিতে পারলে ওটার আয় দিয়েই এরকম দুটো বাংলাদেশ চালানো সম্ভব। সুন্দরবন আমাদের গোটা দেশের মুরুব্বী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ঘূর্ণিঝড়, ঝড়ঝাপটা-জলোচ্ছ্বাস নিজে সহ্য করে বারবার আমাদের রক্ষা করে চলেছে। বনজসম্পদ ও এর প্রায় দুশো পঞ্চাশটি খালের মাছ রপ্তানি করে বাংলাদেশ চালানো সম্ভব।
মধুমতি মায়ের সঠিক নেতৃত্ব ও সমুদ্রকন্যার পরিশ্রমের ফলে অর্জিত সম্পদ আমাদের নতুন পথ দেখাবে;

৫.
পৃথিবীর অধিকাংশ শীতপ্রধান দেশে জন্মহার কম। তাদের জমির উর্বরতা অপেক্ষাকৃত কম। বছরের অধিকাংশ সময় বরফে ঢাকা থাকে। একটি সবজি বাগান বা ফুলবাগান করতে হলে অন্যস্থান থেকে উর্বর মাটি বা topsoil আনতে হয়। এতে অধিক পরিশ্রম ও অর্থের অপচয় হয়। সেদিক থেকে বাংলাদেশে অনেক সৌভাগ্যবান। এখানে বুনতেও হয় না। পাখি ফল খেয়ে বিচি ফেললেই গাছ হয়। আর পুরো বাংলাদেশটাই topsoil। সারাদেশে ক্ষেতের আইল ও রাস্তার দুপাশে সঠিক উপায়ে শাকসবজি-ফলমূল চাষ করলে দেশের চাহিদা মিটে বাঁচবে। করোনা শিখিয়েছে কৃষক ও কৃষিই দেশের প্রাণ;

৬.
উন্নতদেশে নারীরা পেটে সন্তান ধারণ করে জীবনের আনন্দ নষ্ট করতে চায়না। সন্তান পেটে আসার সাথে সাথে মায়ের একাউন্টে টাকা চলে আসে। সন্তানের ভরণপোষণ রাষ্ট্র নেয়। তবুও সন্তান নিতে চায় না। যৌবনের উন্মাদনায় নতুন জামাকাপড় কেনার মতো বন্ধু বদলায়। এমনও দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী একসাথে খেয়ে যার যার বিল সে সে দিচ্ছে। কারণ দুজনই সরকার থেকে সমান পরিমাণ ভাতা পায়। বাইরে বেশি খায়। পুরো মাসে নিজঘরে একদিনও চুলা নাও জ্বলতে পারে। শেয বয়সে সেকারণেই কুকুরের সাথে সময় কাটে। ওল্ডহোমে যেতে হয়। তাদের প্যারেন্টস-ডে পালন করতে হয়। সামান্য ব্যতীক্রম ছাড়া আমাদের পারিবারিক বন্ধন অনন্য। আমাদের আলাদা করে কোনো প্যারেন্টস-ডে দরকার নেই;

৭.
অধিকাংশ রাষ্ট্রে জনসংখ্যা জন্মহার ঋণাত্মক। আমাদের যে জনগোষ্ঠী আছে তা দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে বিশাল সম্ভাবনা। গবেষণায় দেখা গেছে, আগামী ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ বছর বাংলাদেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ঈর্ষণীয় পর্যায় থাকবে। এটি মূলত হিউম্যান রিসোর্স ডিভিডেন্ডের সুফল। সঠিক পরিকল্পনা ও শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে এদের মানবসম্পদে পরিণত করা হলে এটি প্রকৃত অর্থে পরিণত হবে সোনার বাংলায়। শীতপ্রধান দেশে করোনায় প্রচুর মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তাদের রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর দক্ষ জনবল প্রয়োজন। তাই করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের জেগে ওঠার উপযুক্ত সময়। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে প্রস্তুত মানুষ হিসেবে তৈরি করা প্রয়োজন;

৮.
জীবনের মূল কথা হলো শক্তি। মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি দেশসমূহে সূর্যের আলো নেই আর যে ক’টা দিন থাকে তা শরীরে কাঁটার মতো বিঁধে। আমাদের মতো মিষ্টি রোদ অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। বিধাতা প্রাণখুলে দেশকে দিয়েছেন কিন্তু আমরা এর সঠিক ব্যবহার জানিনা। ইতোমধ্যে গবেষণায় এসেছে, করোনা প্রতিরোধে ভিটামিন-ডি এর ভূমিকা অনন্য। জীবনের শুরুতেই মা- দাদি-নানির কাছ থেকে শিশুকালে যা পেয়েছি। খাঁটি সরিষার তেল গায়ে মালিশ করে আমাদের সকালের রোদে শুইয়ে রাখতেন। সেটাই আমাদের প্রাকৃতিক জীবনীশক্তি;

৯.
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সোলার মিনিমাম শুরু হয়েছে। সূর্য এখন থেকে আগের চেয়ে কম আলো দেবে। এতে পৃথিবীর এন্ট্রপি কমবে। ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কমবে। মেরু অঞ্চলের বরফ না গলে এখন আরো জমবে। আমাদের মতো দেশে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাবার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা দূরীভূত হবে। আমাদের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ২/১ ডিগ্রি কমলে বরং আমাদের জন্য ভালো। ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ করতে পর্যটক আসবেন। দরকার তাদের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দেয়া। তখন টুরিস্টদের কাছে রোদ বিক্রি করেই এদেশ চালানো সম্ভব;

১০.
ভবিষ্যতের পৃথিবীতে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-ভূমিকম্প আরো বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এতে করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ বেশি নিরাপদ হবে। বিদেশে টাকা পাচার করে অনেকেই সন্তান ও নিজের ভবিষ্যত নিরাপদ ভাবতেন। এখন সে ভাবনায় আঘাত হেনেছে করোনা। শীতপ্রধান দেশগুলোতে ভবিষ্যতে এর প্রকোপ আরো বাড়বে। সুতরাং পরশ্রীকাতরতা বা বিদেশমুখী না হয়ে নিজের দেশের উন্নয়নে কাজ করাই নিরাপদ।

চাহিদার নিরিখে দেশের বিশাল জনসংখ্যা মোটেই বোঝা নয় বরং সম্পদ। ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। সে লক্ষেই বর্তমান সরকার কাজ করছে। দেশের জন্য কাজ করে সেই শুভক্ষণ দেখে  যাওয়ার আশা।

লেখক-

মোঃ সাব্বির সরকার  সজীব

শিক্ষাবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

বিভাগ সমূহ

সাইটের পেজ

© অবিরাম বাংলা নিউজ ২৪ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।এই সাইটের কোনো তথ্য বা ছবি অনুমতি ব্যতিত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ©