1. fakrul678@gmail.com : Fakrul islam Sumon : Fakrul islam Sumon
  2. mahedipramanik@gmail.com : Md. Mahedi Hasan Pramanik : Md. Mahedi Hasan Pramanik
  3. farukomar22@gmail.com : Omar Faruk : Omar Faruk
  4. onamikaafrinonu098@gmail.com : Onamika Afrin : Onamika Afrin
  5. admin@obirambanglanews24.com : Md. Shahjalal Pramanik : Md. Shahjalal Pramanik Sumon
  6. robinmahamudkhan007@gmail.com : Robin Mahamud Khan : Robin Mahamud Khan
  7. sapahar.sakib@gmail.com : Md. Sakib Hossen : Md. Sakib Hossen
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
উলিপুর ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২১ এর ফাইনাল খেলা অনুষ্টিত হলো। বদলগাছীতে ১ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা সহ আটক-২ কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘সিরাজগঞ্জশপ’ ও ‘আলাদীনের প্রদীপ’ রাজারহাটে জলবায়ু ঝুকিপূর্ণ ফোকাস গ্রুপের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভেঙ্গে গেছে সাঁকো, চরম দূর্ভোগে ১২ গ্রামের মানুষ সিরাজগঞ্জে ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান পার্টির ১৪ সদস্য আটক নালী ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে এমপি দূর্জয় জন্মদিন উদযাপন উলিপুরে পন্ডিত মহির উদ্দিন স্কুলে ছাত্র ছাত্রী দের কাছে অবৈধ ভাবে টাকা উত্তলন-ফলোআপ নিউজ। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা তিস্তার ভাঙ্গন ঠেকাতে এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে বাশ ও গাছ দিয়ে বান্ডাল নির্মাণ

ইসলামে সংঘবদ্ধ জীবন যাপনের গুরুত্ব

সম্পাদকীয়
  • Update Time : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৫৮ Time View

একটি লাঠি সহজে ভাংগা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু দশটি লাঠির একটি আঁটি ঘাম ঝরায়েও ভাংগা তত সহজ নয়।
সংঘবদ্ধভাবে জীবনযাপনের গুরুত্ব মুসলমানরা না বুঝলেও অমুসলিমরা তা ভালো করেই বুঝে। এমনকি অন্যান্য প্রাণীকুলও বুঝে। তাইতো পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি প্রাণীকে সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করতে দেখি। দলবদ্ধ ভাবে জীবন যাপন করতে দেখি পিপীলিকা, মৌমাছি, নদীর মাছ, বনের পশু-পাখি ইত্যাদিকেও।
জামা’য়াতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামায,
জুমা ও ঈদের নামাজ আদায় এবং একসাথে হজ্ব পালন সংঘবদ্ধভাবে জীবন যাপনের গুরুত্বের প্রতি ইংগিত বহন করে। দল থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যাক্তিকে হাদীসে এই বলে সাবধান করা হয়েছে যে, মেষের পাল থেকে বিচ্ছিন্ন মেষকে যেমন নেকড়ে বাঘ ধরে নিয়ে যায়, তেমনি শয়তান সংঘবদ্ধভাবে জীবন যাপন করা থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে নিজের খপ্পরে নিয়ে নেয়।

রাসূল (স.) বলেন-
من شذ شذ فی النار-
“যে ব্যক্তি দলত্যাগ করবে, সে দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে।”

রাসূল (স.) আরো এরশাদ করেন,
إذا کان ثلاثة فی سفر فليٶمروا أحدهم ۰
“যখন তোমরা তিনজন ভ্রমণে থাকো, তখনও একজনকে নেতা বানিয়ে নাও।”

ওমর (রা.) বলেছেন,

لاإسلام إلا بجماعة ولا جماعةالا بامارة ولا إمارة الابطاعة۰

“সংঘবদ্ধতা ব্যতীত ইসলাম নেই, আর নেতৃত্ব ব্যতীত সংঘবদ্ধতা নেই এবং আনুগত্য ব্যতীত নেতৃত্ব নেই।”

রাসূল (স.) আরোও ইরশাদ করেন,
من خرج من الطاعة وفارق الجماعة فمات مات ميتة جاهلية۰
“যে ব্যক্তি আমীর বা নেতার আনুগত্য কে অস্বীকার করতঃ সংঘবদ্ধতা পরিত্যাগ করল এবং সেই অবস্থায়ই মারা গেলো, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল।”
(মুসলিম)

রাসূল (স.) বলেছেন,
انا امرکم بخمس الله امرنی بهن بالجماعة والسمع والطاعة والهجرة والجهاد فی سبيل الله فانه من خرج من الجماعة قدر شبر فقدخلع ربقة الاسلام من عنقه الاان يراجع ومن دعا بدعواللجاهلية فهو جثی جهنم قالوا يا رسول الله وان صلی وصام قال وان صلی وصام وزعم انه مسلم۰
“আমি তোমাদেরকে ৫ টি কাজের নির্দেশদিচ্ছি, যে বিষয়ে আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন; তা হলো-
১. দলবদ্ধভাবে থাকবে।
২. নেতার কথা শুনবে।
৩. তাঁর আনুগত্য করবে।
৪. মন্দ বিষয়ে ত্যাগ করবে।
৫. এবং জিহাদ করবে।
যে দলবদ্ধ জীবন ত্যাগ করে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেল, সে যেন নিজের গলদেশ থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলল। অবশ্য যদি সে ফিরে আসে, তাহলে ভিন্ন কথা। আর যে ব্যক্তি মানুষকে জাহিলিয়াতের দিকে আহ্বান জানাবে, সে হবে জাহান্নামী। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! নামাজ-রোজা আদায় করলেও কি সে জাহান্নামী হবে?! রাসূল (স.) বললেন- হ্যাঁ, যদি সে নামাজ-রোজা পালন করে এবং মুসলমান বলে দাবী করে, তাহলেও সে জাহান্নামী হবে। (তিরমিজী)

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-
واعتصموابحبل الله جميعاولاتفرقوا۰
“তোমরা সংঘবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।”
(আল ইমরান -১০৩)

আল্লাহপাক আরও বলেন-
ان الله يحب الذين يقاتلون فی سببيله صفا کأنه بنيان مرصوص۰
” নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায় সংগ্রাম করে।”
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
أن أقيمواالدين ولاتتفرقوا فيه۰
তোমরা দিনকে প্রতিষ্ঠা করো এ ব্যাপারে তোমরা পরস্পর মতভেদ করোনা।

দ্বীন কায়েমের এই ফরযিয়্যত আদায় করা কার পক্ষে একা কিছুতেই সম্ভব নয়। এমনকি শত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোন নবী-রাসুল তা একা করতে পারেননি। অবশ্য প্রথমে নবীকে একাই তা শুরু করতে হয়েছে। যে নবীর ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি এবং সংঘবদ্ধভাবে কাজ করার সুযোগ যে নবী পাননি, তিনি দ্বীনকে বিজয়ী করতে পারেননি। যেমন নুহ (আ.) এর নয়শত বা সাড়ে নয় শত বছর পর্যন্ত দ্বীনের দাওয়াতে মাত্র ৪০ জন পুরুষ ও ৪০ জন নারী ছাড়া কেউই তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি। এজন্য আল্লাহপাক তাঁকে তিরস্কার করেননি। কারন তিনি চেষ্টার ত্রুটি করেননি। আবার আমাদের নবী মুহাম্মাদ (স.) এ কাজটি করতে পেরেছেন। মাক্কী জীবনে না পারলেও মাদানী জীবনে লোকদেরকে সঙ্ঘবদ্ধ করে দ্বীন কায়েম করে একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র উপহার দিতে পেরেছেন। একটি প্রতিষ্ঠিত বাতিল সমাজব্যবস্থাকে বদলিয়ে তদস্থলে নতুন করে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়। বেশ কঠিন ও জটিল কাজ। যোগ্য নেতৃত্ব ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক একদল লোকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া এ বিরাট উদ্দেশ্য কিছুতেই সফল হতে পারেনা। আসমান থেকে কোন ফেরেশতা এসে এ কাজ কখনো করেনি, করবেও না এবং তার নিয়মও নেই। এধরার মানুষদেরই এই কাজটি করতে হয়। নবী করীম (স.) এর সময় এ কাজটি করা জন্য যারা তাঁর দলে শরীক হয়ে তাঁর বা তাঁর প্রতিনিধির নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতেন তাঁরাই মুসলিম হিসেবে গণ্য হতেন।
রাসূল স.) এরশাদ করেছেন,
من مات وليس فی عنقه بيعة مات ميتة جاهلية۰
“যে ব্যক্তি বইয়াতের রজ্জু গলদেশে ঝুলানো ছাড়া মারা যাবে তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়তের মৃত্যু। ” (মুসলিম)

পৃথিবীতে দ্বীন আজ পূর্ণভাবে কায়েম নেই, তাই নবী করীম (স.) এর উম্মত হিসেবে আমাদেরকে সংঘবদ্ধভাবে দ্বীন কায়েমের চেষ্টা করা অবশ্যকর্তব্য। অন্যথা কাল কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর কাঠগড়ায় আমাদেরকে অবশ্যই এজন্য জবাবদিহি করতে হবে।

হক্ব আজ বাতিলের অধীনে। বাতিলের অনুগ্রহে হক্ব আজ সমাজে যতটুকু প্রতিষ্ঠিত। মায়ানমার, কাশ্মীর, সিরিয়া সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা আজ বিজাতীয়দের হাতে চরমভাবে মার খাচ্ছে ও শরণার্থী হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় কোন রকম বেঁচে আছে। এজন্য মুসলমানদের অনৈক্যই একমাত্র দায়ী। আর ননমুসলিমরা যে কোন ইস্যুতেই এক। বাঘ ও সিংহ এত শক্তিশালী হওয়া সত্বেও তারা সংঘবদ্ধভাবে জীবন-যাপন করছে। তারা জানে, অনৈক্য ভাবে চললে মহিষের গুঁতো খেয়ে অকালেই অক্কা পেতে হবে।

হায় আফসোস ! আমরা মুসলিম জাতি যদি আজ ঐসব প্রাণীর মতও বুদ্ধি খাটিয়ে ঐক্য থাকতাম! তাহলে বাতিল শক্তি টিকটিকির মতো লেজ রেখেই আত্মরক্ষার জন্য পালাতে বাধ্য হত।

লেখক-

মোঃ খবির উদ্দিন রমিজী,
উপাধ্যক্ষ, গৈড্যা এম.এস.ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা। ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও প্রবন্ধকার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

বিভাগ সমূহ

সাইটের পেজ

© অবিরাম বাংলা নিউজ ২৪ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।এই সাইটের কোনো তথ্য বা ছবি অনুমতি ব্যতিত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ©