1. fakrul678@gmail.com : Fakrul islam Sumon : Fakrul islam Sumon
  2. mahedipramanik@gmail.com : Md. Mahedi Hasan Pramanik : Md. Mahedi Hasan Pramanik
  3. farukomar22@gmail.com : Omar Faruk : Omar Faruk
  4. onamikaafrinonu098@gmail.com : Onamika Afrin : Onamika Afrin
  5. admin@obirambanglanews24.com : Md. Shahjalal Pramanik : Md. Shahjalal Pramanik Sumon
  6. robinmahamudkhan007@gmail.com : Robin Mahamud Khan : Robin Mahamud Khan
  7. sapahar.sakib@gmail.com : Md. Sakib Hossen : Md. Sakib Hossen
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শাহজাদপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে লুটপাটের অভিযোগ রাজারহাটে তিস্তার ভাঙ্গন রোধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত লক্ষীপুর জেলায় চররুহিতা ফাউন্ডেশনের কার্যকরী কমিটি গঠন কুড়িগ্রামের উলিপুরে গাজা সহ তিন মাদক ব্যাবসায়ি আটক সাপাহারে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সাইকেল আরোহী নিহত করোনায় সচেতন করতে গিয়ে গনমাধ্যম কর্মীক প্রাণনাশের হুমকি তারাগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত বদলগাছীতে ভুয়া কবিরাজ এর ফাঁদে নিঃস্ব মানুষ, বানিয়েছেন বিলাসবহুল বাড়িও! সাপাহারে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম সংরক্ষণ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করেই কেনাকাটায় মেতেছে জনতা!

“ইসলামে মুহাররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত”

সম্পাদকীয়
  • Update Time : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০
  • ১৪০ Time View

প্রথম পর্ব:

হিজরী বর্ষের সূচনা মাস হচ্ছে মুহাররম। মুহাররাম ( محرم) আরবী শব্দ। শব্দটি হুরমত (حرمة) থেকে নির্গত ধরা হলে অর্থ দাঁড়ায় সম্মান। আদি কাল থেকে এ মাসকে মর্যাদা দেয়া হয়।
আর হারাম (حرام) থেকে নির্গত হলে অর্থ দাড়ায় হারাম বা নিষিদ্ধ। যেহেতু এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ করা পূর্ব থেকেই হারাম বা অবৈধ বলে স্বীকৃত ছিল। উল্লেখ্য যে মুহাররম মাসের দশ তারিখ কে আশুরা বলা হয়।

অনেকে মনে করে থাকেন, ৬১ হিজরীর ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেন (রাঃ) ও তাঁর ৭২ জন অনুচরের শাহাদাত এর মাধ্যমে মুহাররম মাসের গুরুত্ব শুরু। মূলতঃ আসমান-জমিনের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই আল্লাহ তায়ালার এই মুহাররম মাস কে সম্মানিত ঘোষণা করেন। এ মর্মে আল্লাহপাক ঘোষণা করেন –

اِنَّ عِدَّۃَ الشُّہُوۡرِ عِنۡدَ اللّٰہِ اثۡنَا عَشَرَ شَہۡرًا فِیۡ کِتٰبِ اللّٰہِ یَوۡمَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ مِنۡہَاۤ اَرۡبَعَۃٌ حُرُمٌ ؕ ذٰلِکَ الدِّیۡنُ الۡقَیِّمُ ۬ۙ فَلَا تَظۡلِمُوۡا فِیۡہِنَّ اَنۡفُسَکُمۡ.
“নিশ্চয়ই আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে আল্লাহর বিধানে মাস গণনায় বারটি। এর মধ্যে বিশেষ রূপে চারটি মাস হচ্ছে সম্মানিত। এটাই হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্ম। অতএব তোমরা এ মাসগুলিতে (ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ করে) নিজেদের ক্ষতি সাধন করনা।” (সুরা : তাওবা-৩৬)।
ব্যাখ্যা স্বরূপ হাদিসে এই চারটি মাসের নাম এসেছে জিলক্বদ, জিলহজ্ব, মহররম, রজবে মুদার। যেমন নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, এক বছরে বার মাস। এর মধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। এর মধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থ মাস মুজর গোত্রের রজব মাস। (সহিহ বুখারী)

★ আশুরার দিনে সংঘটিত ঘটনা সমূহঃ

কারবালার ঐতিহাসিক হৃদয়বিদারক ঘটনা আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ায় পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। তা হলো এ মাস শোকের মাস। মূলত এ মাসে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশই সত্যাশ্রিত সুন্দর ঘটনা, যা শুনলে আল্লাহর কুদরতি পায়ে আমাদের মাথা সেজদাবনত হয়ে আসবে; মুখ দিয়ে বের হয়ে আসবে “আলহামদুলিল্লাহ “।
এ দিনে সংঘটিত অন্যতম ঘটনা হচ্ছে :

০১. পৃথিবী, আসমান ও যমীন সৃষ্টি করা হয় এই দিনে ।

০২. এই দিনে আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়।

০৩. এই দিনে তাঁদের উভয়কে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয়।

০৪. এই দিনে তাঁদের উভয়কে বেহেশত
থেকে দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়।

০৫. এই দিনে আদম (আ.) ও হাওয়া (আঃ) এর তাওবা কবুল করা হয়।

০৬. এই দিনে শ্রীলংকা থেকে আদম (আঃ) কে এবং জেদ্দা থেকে মা হাওয়া (আঃ) কে আরাফাতের ময়দানে পুনরায় সাক্ষাৎ ঘটানো হয়।

০৭. আশুরাতেই মূসা (আ.) তার সাথীদের নিয়ে নীল নদ পার হন এবং ফেরাউন বাহিনী শলীল সমাধি হয়।

০৮. হযরত আইয়ুব (আ.) দীর্ঘ ১৮ বছর কঠিন রোগ ভোগের পর সুস্থ হয়ে উঠেন এই আশুরাতেই।

০৯. হযরত ইউছুফ (আ.) তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.) এর সাথে মিলিত হন এই আশুরাতেই।

১০. আল্লাহপাক দুনিয়াতে প্রথমবার রহমতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন আশুরাতেই।

১১. হযরত ইসা (আ.) কে আল্লাহপাক স্বশরীরে চতুর্থ আসমানে তুলে নেন এই আশুরাতেই।

১২. প্লাবনের পর হযরত নূহ (আ.) এর জাহাজ চল্লিশ দিন পর জুদি নামক পাহাড়ের কিনারে ভিড়ে আশুরাতেই।

১৩. হযরত ইবরাহীম (আঃ) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে রক্ষা এ মাসেই।

১৪. ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে রক্ষা পান এমাসেই।

আশুরা দিনে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ঘটনা হলো ৬১ হিজরীর মুহাররমের ১০ তারিখে কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.) কে সপরিবারে শাহাদাত লাভ করা। সেই ৬১ হিজরীর ১০ মুহররম শুক্রবার আশুরার দিনে রাসূলুল্লাহ্ (স.) এর নাতী হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাতার লক্ষ্যে কারবালা প্রান্তরে ত্যাগের অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। যুগ যুগ ধরে যা মানুষকে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা যোগায়।

সেদিন ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর ৭২ জন সঙ্গী-সাথীকে কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনী অত্যন্ত নির্মমভাবে শহীদ করেছিল। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) এজন্য এই দিনটি মুসলিম উম্মার নিকট বড়ই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।

★ মুহাররম মাসের ফজিলতঃ

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিলো। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন।
عن ابی هريرة رض۰قال قال رسول الله ص۰أفضل الصيام بعد رمضان شهر الله المحرم
وأفضل الصلاة بعد الفريضة صلاة الليل۰
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।’ (মুসলিম)

‘আশুরা দিনের রোজা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন,
صيام يوم عاشراءأحتسب علی الله ان يکفر السنة قبلها۰
‘আশুরা দিনের রোজার ফলে আগের বছরের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (মুসলিম)

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَرَأَى الْيَهُودَ تَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى قَالَ فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ۰

ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (স.) মাদীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইয়াহুদীগণ ‘আশুরার দিনে রোজা পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি ব্যাপার? (তোমরা এ দিনে সওম পালন কর কেন?) তারা বলল, এ অতি উত্তম দিন, এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেন, ফলে এ দিনে মূসা (আ) সওম পালন করেন। আল্লাহর রাসূল (স.) বললেনঃ আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী, এরপর তিনি এ দিনে রোজা পালন করেন এবং রোজা পালনের নির্দেশ দেন।
(সহিহ বুখারী- ২০০৪)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: حِينَ صَامَ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِه قَالُوا: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ إِنَّه يَوْمٌ يُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارٰى. فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَئِنْ بَقِيتُ إِلٰى قَابِلٍ لَأَصُوْمَنَّ التَّاسِعَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, যে সময় রসূলুল্লাহ (স.) ‘আশূরার দিন রোজা রেখেছেন; আর সাহাবীগণকেও রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সাহাবীগণ আরয করেন, হে আল্লাহর রসূল! এদিন তো ঐদিন, যেটি ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ! (আর যেহেতু ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানদের আমরা বিরোধিতা করি, তাই আমরা রোজা রেখে তো এ দিনের গুরুত্ব প্রদানের ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করছি)। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আমি আগামী বছর জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্য অবশ্যই নয় তারিখেও রোজা রাখবো। (মুসলিম-১১৪৪)

পরিশেষে রব্বে কারীমের দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে হাদীসের আলোকে মুহাররমের প্রকৃত ইবাদত করার তাওফীক দান করেন।

(চলবে, এটি একটি ধারাবাহিক লেখা)

লেখক-

মোঃ খবির উদ্দিন রমিজী,
উপাধ্যক্ষ, গৈড্যা এম,এস, ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা। ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবীদ ও প্রবন্ধকার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

বিভাগ সমূহ

সাইটের পেজ

© অবিরাম বাংলা নিউজ ২৪ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।এই সাইটের কোনো তথ্য বা ছবি অনুমতি ব্যতিত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ©